Top News

শ্রীমঙ্গলে সংখ্যালঘু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দাবির ঘটনা আলোচনায় এসেছে।

 

শ্রীমঙ্গলে ভোলানাথ গোসাই পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ তুলছেন। পাশে তাঁর ছোটভাই ও প্রতিবেশী। ছবি: জিএম টেলিভিশন

নিউজ ডেস্ক: শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের পুরানবাজার-পোস্ট অফিস এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবার গোসাই পরিবারের সদস্য ভোলানাথ গোসাই অভিযোগ করেছেন, তার পৈতৃক সম্পত্তি ও সেখানে নির্মিত দোকানঘর দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করা হলেও বর্তমানে ভাড়াটিয়া জমিটি দখল করছেন এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন না।

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভোলানাথ গোসাই বলেন, “আমাদের পরিবার প্রায় অর্ধশত বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে। এই জমি ও সেখানে নির্মিত দোকানঘর আমাদের জীবিকার প্রধান উৎস। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আয়ের ওপরই আমাদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে ভাড়াটিয়া জোনাব আলী ভাড়া পরিশোধ বন্ধ করেছেন, যা আমাদের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করেছে।”

ভোলানাথ আরও জানান, ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে একটি কথিত ক্রয় সংক্রান্ত হাতের লেখা কাগজ দেখান। তবে তার পক্ষ থেকে বৈধ দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির মধ্যস্থতায় ২০১৮ সালে নতুন করে ভাড়াটিয়া চুক্তি সম্পাদিত হলেও, কিছু মাসের মধ্যেই ভাড়াটিয়া আবার ভাড়া প্রদানের দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভোলানাথের ছোটভাই নিমাই গোসামী এবং প্রতিবেশী তিলোকি স্বর্ণকার উপস্থিত ছিলেন। ভোলানাথ গোসাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচারের জন্য আবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি পুনরুদ্ধার হোক এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”

অভিযোগ অস্বীকার করে জোনাব আলী জানান, “প্রায় ৪২ বছর আগে, ১৯৮৭ সালে আমি ভোলানাথ গোসাইয়ের বাবা রামাশংকর গোসাই থেকে এক লাখ টাকায় একটি নন-রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করি। তখন জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল, তাই তা রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। মামলা নিষ্পত্তির পর সরকারি নিয়মে জমি রেজিস্ট্রি করা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রামাশংকর গোসাইয়ের মৃত্যুর পর তার ছেলে ভোলানাথ গোসাই জমিটি রেজিস্ট্রি করতে রাজি হচ্ছেন না।”

স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের সম্পত্তি বিরোধ শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা সময়মতো সমাধান না হলে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

ভোলানাথ গোসাই জানিয়েছেন, তিনি আইনি পথ অবলম্বন করে তার পৈতৃক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আশা করি ন্যায়বিচার হবে এবং কেউ আর আমাদের পরিবারকে অবৈধভাবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।”

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও ইতিমধ্যেই নজর রাখছে এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে ভোলানাথ গোসাই জানান, তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত এবং আশা করছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যান্য পরিবারের জন্যও এটি একটি দৃষ্টান্ত হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post